শুক্রবার || ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ || ৯:১২:২৪ অপরাহ্ন

readers

পোল্ট্রি শেডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্বন্ধে জানতে চাই

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার || নভেম্বর ৭ ২০১৯ || ৩:৩৩:৫২ PM

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

সাধারণত আমরা সবাই জানি পোল্ট্রি শেড পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। কিন্তু দেখা যায় পর্যাপ্ত জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পোল্ট্রি শেডে প্রয়োজনীয় ভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হয় না। যার অভাবে বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ ঘটে থাকে এবং তা বিস্তার লাভ করে এক শেড থেকে আরেক শেডে এবং কখনো কখনো এক খামার থেকে আরেক খামারে বা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায়। এক্ষেত্রে উৎপাদকদের এবং ভোক্তা উভয় পক্ষকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন এই জন্য যে, পোল্ট্রি খামারে উৎপাদিত ডিম বা মাংস যা মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেই গুলোর মাধ্যমে যেন কোন প্রকার রোগ জীবাণু আমাদের দেহে তথা মানবদেহে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। আমার মনে হয় এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ববান হতে হবে হ্যাচারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের। তারা যেন তাদের হ্যাচারি ফার্মে উৎপাদিত ডিম এবং বাচ্চা জন্মগতভাবে রোগ জীবাণু বহন না করে সেদিকে যতœবান হবেন। 

ব্যবসা আসলে এক দিনের জন্য নয়, ব্যবসা এক হিসেবে আজীবনের। যেমন ধরা যাক, কোন খামারী অন্য কোন হ্যাচারী মালিকের নিকট থেকে বাচ্চা কিনলেন। হ্যাচারী মালিক খামারীকে না জানিয়ে রোগাক্রান্ত বাচ্চা দিলেন এবং কিছুদিন বাদে তা অসুস্থ হয়ে মারা গেলো। সেই খামারী তো র্স্ববস্ব হারালেনই, যদি  কোন দিন আবার খামারী হয়ে ফিরে আসেন তবে আর সেই প্রতারক হ্যাচারী মালিকের নিকট অবশ্যই যাবেন না এবং তার কাছ থেকে যদি কেউ পরামর্শ চান যে, কোথা থেকে বাচ্চা কিনবেন তবে সে মনে হয় না সেই প্রতারক হ্যাচারী মালিকের ঠিকানা দিবেন। তাই জেনে শুনে এই রোগাক্রান্ত বাচ্চা প্রান্তিক লেবেলের খামারিদের নিকট সরবরাহ করবেন না।

কেননা শুধুমাত্র মুনাফার দিক বিবেচনা করে আপনার হ্যাচারি তে উৎপাদিত রোগাক্রান্ত বাচ্চা অন্য একজন খামারির সর্বস্ব হারানোর কারণ না হয়ে দাঁড়ায় এবং তার পাশাপাশি উক্ত রোগে আক্রান্ত বাচ্চার রোগ যেন অন্য কোন খামারের বাচ্চাদের স্পর্শ করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের হ্যাচারি মালিকদের এ ব্যাপারে আন্তরিকতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। 

তারা তাদের হ্যাচারি ফার্মে উৎপাদিত রোগক্রান্ত বাচ্চাগুলো অর্থের লোভে পড়ে সকল শ্রেণীর খামারিদের নিকট বিক্রি করে থাকেন। ফলে দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে রোগ বিস্তার করছে। এ সকল রোগ দ্রুত পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে পোল্ট্রি  শেডের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পোল্ট্রি শেডের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা জোরদার থাকলে এক ফোক থেকে আরেক ফোকে রোগ বিস্তারের আশংকা অনেক কমে যায় এবং যার ফলে মাংস ও ডিমের মাধ্যমে খাদ্য বাহিত রোগের সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যায়।

সাধারণত সকল জায়গায় দেখা যায় সবাই একই পদ্ধতিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করে থাকেন ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা জোরদারের একই রকম সুযোগ থাকে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শুধু মোরগ-মুরগির রক্ষার জন্যই না বরং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণে আমাদের পরিবেশের তথা মানবদেহে কোন প্রকার ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া বা অন্য কোন প্যারাসাইট অনুপ্রবেশ করতে পারে না।

যদি কোন খামারে একটি ফোকে রোগ ব্যাধির সংক্রমণ ঘটে ফলে স্বাভাবিকভাবেই খামারের অন্যান্য পরবর্তী ফোক গুলো ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে থাকে। এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সকলের পরিচিত পত্রিকা ‘পোল্ট্রি খামার বিচিত্রা’র মাধ্যমে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কোন বিজ্ঞানভিত্তিক উপায় থাকলে তা ক্রমান্বয়ে ছাপানোর অনুরোধ জানাচ্ছি।


Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


61, Joarsahara (1st floor), Dhaka-1000
Copyright © 2017 monthly Poultry Khamar Bichitra. All Right Reserved.