শুক্রবার || ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ || ১০:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন

interview

প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাব হলে অ্যানিমেল হেলথ বিজনেস ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুষ্টি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে

প্রকাশ: সোমবার || মার্চ ১১ ২০১৯ || ১:৩৪:০২ PM

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

একটা কঠিন সময় পার করেছে বাংলাদেশের পোল্ট্র্রি শিল্প। বিগত প্রায় এক বছর লেয়ার খামারিরা লোকসান গুনেছেন। অনেকেই খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। এর পরপরই কমে গেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। বাচ্চা বিক্রি করে উৎপাদন খরচের টাকাটাও ঘরে তোলা যাচ্ছেনা। ফিড মিলগুলোর বিশাল অংকের টাকা আটকে গেছে। পোল্ট্র্রি শিল্প এদেশের  মানুষের জন্য প্রাণিজ আমিষের যোগান দিয়ে চলেছে কিন্তু তাঁদের মূল্যায়ন করার পরিবর্তে কর ও শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। 
পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সহযোগিতা মূলক হস্ত প্রসারিত না হলে অ্যানিমেল হেলথ বিজনেস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ১৬ কোটি মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তায় অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানীগুলো কাজ করে যাচ্ছে। আমিষ ও প্রোটিন উৎপাদন নিশ্চিত করতে অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানীগুলো দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উৎস থেকে ফিড তৈরির বিভিন্ন অ্যাডিটিভস সংগ্রহ করে দেশের ফিড মিল ও ব্রিডিং ফার্মগুলোতে সরবরাহ করছে।
 এসব  পণ্যের গুনগত উৎকর্ষতায় দেশে আজ বিপুল পরিমানে মাছ-মাংস, ডিম-দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। অপরদিকে এই উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে দেশের হাজার হাজার যুবক, যুব-মহিলার কর্মসংস্থান হয়েছে এবং অংশগ্রহন করেছেন পুষ্টিবিদ, ভেটেরিনারী ডাক্তার, শিক্ষিত প্রান্তিক সম্প্রদায়। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রক্রিয়ার সাথে অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানীগুলোর সম্পৃক্ততায় সরকারের সহযোগিতা সব সময়ই ছিল। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, গণমানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতীক, চার বারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সময়ে পোল্ট্রিসহ গবাদি-প্রাণি ও মৎস্য খাতের প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির গতি সঞ্চার করছে। 
সঙ্গত কারণেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এ সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক। কিন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানীগুলোকে মাঝে মধ্যেই আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিকূল অবস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রাণীজ প্রোটিন উৎপাদন খাতটি বিকাশে সহযোগিতার অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় পোল্ট্রিসহ গবাদি-প্রাণি ও মৎস্য উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ফিড অ্যাডিটিভস, ঔষধ-পত্র, ভ্যাকসিনাদি আমদানির ক্ষেত্রে  বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতামূলক হস্ত প্রসারিত না হলে অ্যানিমেল হেলথ  বিজনেস ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর ফলে প্রোটিন উৎপাদনের বিশাল কর্মযজ্ঞ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পোল্ট্রি সেক্টরের গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকার খাদ্য-শস্য উৎপাদনে কৃষকদের যেভাবে ভর্তুকি দিয়ে থাকে এ ক্ষেত্রেও তেমনটি করা যেতে পারে। তবে দূর্নীতিসহ অনিয়ম ঠেকাতে সরাসরি ভর্তুকি না দিয়ে ফিড উৎপাদকদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এ ভর্তুকি প্রদান করা যেতে পারে। 
এতে ফিডের দাম কমবে, ফলে খামারীদের উৎপাদন ব্যয় কমবে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ফিডমিলগুলো সরকারি সহায়তা পেলে মাঠ পর্যায়ের খামারীরা বেনিফিশিয়ারি হবে। এছাড়া সরকারিভাবে পোল্ট্রি, ডেইরী, ফিশারী খাতকে সহযোগিতা করার জন্য ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’ প্রদান করা খুবই জরুরী হয়ে উঠেছে। সরকার এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে পদক্ষেপ নিলে সেক্টর লাভবান হবে।
- অনুলিখন ঃ হাসিব কামাল

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


61, Joarsahara (1st floor), Dhaka-1000
Copyright © 2017 monthly Poultry Khamar Bichitra. All Right Reserved.