শুক্রবার || ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ || ১০:২১:৩৩ অপরাহ্ন

interview

নেতিবাচক ও ভিত্তিহীন প্রচার-প্রগাগন্ডার কারনে মাঝে মধ্যেই সেক্টরে বিপর্যয় নেমে আসে

প্রকাশ: সোমবার || মার্চ ১১ ২০১৯ || ১:২১:৩১ PM

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

দেশের অন্যতম বৃহত্তম কর্মসংস্থান খাত হিসেবে পোল্ট্রির সাথে অন্তত ৬০ লক্ষ লোক কাজ করছে। কিন্তু এটি প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় এর কর্মকান্ড দৃশ্যমান হয় না। 
অপরদিকে গার্মেন্টস সেক্টরের ৪০ লক্ষ মানুষের কর্মচাঞ্চল্য রাজধানী কেন্দ্রিক হওয়ায় তা সহজেই সবার চোখ পড়ে। দেশের পোল্ট্রি শিল্প আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও সোস্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন সময়ে দেশের মূলধারার মিডিয়াগুলোতে নেতিবাচক ও ভিত্তিহীন প্রচার- প্রপাগন্ডার কারনে মাঝে মধ্যেই বিপর্যয় নেমে আসে। এ ক্ষেত্রে অবস্থার উত্তরণ ঘটানোর জন্য সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ডিম ও ব্রয়লার মুরগি মাংসের মাথা পিছু গ্রহনমাত্রা বৃদ্ধির জন্য গনমাধ্যমে প্রচারনা চালানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব  দেয়া প্রয়োজন।
চাল, চিনি, দুধ, আটা এমনকি লবনের বিজ্ঞাপনও গণমাধ্যমে প্রচারিত হয় কিন্তু সাধারনত ডিমের কোন বিজ্ঞাপন দেখা যায়না আমাদের দেশে। ডিম বিক্রি থেকে যে লাভ পাওয়া যায় তা দিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচারের খরচ বহন করা সম্ভব হয়না। তাই একাজে তথ্য মন্ত্রণালয়কে এগিয়ে আসতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাচ্চারা যেন সপ্তাহে অন্তত দু’টি ডিম খায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। ডিমের ইতিবাচক প্রচারনায় চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ ও রন্ধনশিল্পীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাদেরকে ডিম গ্রহনের প্রচারনায় সম্পৃক্ত করতে হবে। 
সরকারের তরফ থেকে শস্য ও অর্থকরী ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা প্রনোদনা দেয়া হলেও প্রানিজ প্রোটিন উৎপাদনকারী কৃষকের জন্য কোন অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে না। এ খাতের প্রান্তিক খামারীদেরকে প্রনোদনা দেয়া প্রয়োজন। সুতরাং এতদ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
পোল্ট্রি পেশাকে লাভজনক করতে না পারলে এখাতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। তাই সবার আগে উৎপাদন খরচ কমানোর প্রতি  নজর দিতে হবে। জীব নিরাপত্তার সাধারন কিছু নিয়ম মেনে চলা, খামার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পোল্ট্রি পালনকে লাভজনক করতে পারে। খামার নিবন্ধনের যে ফি নির্ধারন করা হয়েছে তা আরও কমানো উচিত। তাহলে খামারিরা নিবন্ধনে আগ্রহী হবে। এর পাশাপাশি খামারিদেরকে জীবানুনাশক, ঔষধ-ভ্যাকসিন ও প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া যায় কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
 নিরাপদ ডিম ও ব্রয়লার মাংস উৎপাদন নিশ্চিত করতে এন্টিবায়োটিক বিহীন ফিড উৎপাদন করতে গিয়ে ফিডমিলারগন প্রি-বায়োটিক ব্যবহার করছে এবং এতে প্রতি কেজি ফিড উৎপাদন ব্যয় গড়ে দেড় টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে ডিম ও মাংস উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু ভোক্তাগণ নিরাপদ পণ্য পাচ্ছেন।
দেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া দেশ ও জাতির নিকট দ্বায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও এ সেক্টরের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা যেন রাখতে পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
- অনুলিখন ঃ কামাল আহম্মদ 

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


61, Joarsahara (1st floor), Dhaka-1000
Copyright © 2017 monthly Poultry Khamar Bichitra. All Right Reserved.