রবিবার || ৯ আগস্ট ২০২০ || ৮:০৮:১৫ অপরাহ্ন

interview

পোল্ট্রি শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থে ‘একসাথে চলো’ নীতিতে একতাবদ্ধ থাকা এখন খুবই জরুরী

প্রকাশ: সোমবার || মার্চ ১১ ২০১৯ || ১:১৪:৩০ PM

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

নব্বইয়ের দশকের শুরুতে প্যারাগন পোল্ট্রি নামে আমার ব্যবসা শুরু। লেখাপড়া শেষ, ব্যবসার বিষয়ে ভাবতে গিয়ে মনে হলো কৃষি খাতেই বিনিয়োগ করব। এ খাতে ব্যবসার সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্লেষণ করে দেখলাম, পোল্ট্রি খাতে বিনিয়োগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এক পর্যায়ে এ ব্যবসার সম্ভাবনাও বাড়তে থাকে। শুরুতেই নজর ডিম উৎপাদনে। পোল্ট্রি ও ডিম উৎপাদন করতে গিয়ে দেখলাম, মুরগির খাবারে প্রচুর ব্যয় হচ্ছে। এ জন্য ১৯৯৫ সালে এসে  ফিড মিল চালু করি। আমাদের তৈরি খাদ্যের সুনাম বাড়তে থাকায় উৎপাদন ক্ষমতাও বাড়াই। এরপর তো আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি, যেখানে বিনিয়োগ করেছি সফলতা পেয়েছি। কঠোর পরিশ্রম  এবং একগ্রতা আমার এ সফলতার গূঢ় কথা। পোল্ট্রি ব্যবসা বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিই। এখাতে বিনিয়োগ হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বহু লোকের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে এ খাত থেকে। বর্তমানে কর্মসংস্থানের অন্যতম খাত হলো পোল্ট্রি। প্রায় ৬০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান ছাড়াও ১৬ কোটি ভোক্তার আমিষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে এখান থেকেই। তবে গত কয়েক বছরে বেশকিছু সংকটের কারণে বিনিয়োগ যেমন বাড়ছে না, তেমনি সম্ভাবনাময় এ খাতটি ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই সংকটসমূহ দুর করা দরকার। সামগ্রিক শিল্পায়নের স্বার্থে গ্যাস- বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিৎকরণের জন্য সরকারের সহায়তা প্রয়োজন। খাদ্য নিরাপত্তা, বিশেষ করে আগামী দিনের পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য পোল্ট্রি, ডেইরীসহ ফিশারী খাত এবং ফিড উৎপাদন কর্মকান্ডে পৃষ্টপোষকতা করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এসবখাতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৫%-এ নামিয়ে আনা এবং পুনঃঅর্থায়ন পলিসি চালু করা দরকার।
ঐরমযষু চধঃযড়মবহরপ ঠরৎঁং-এর ভ্যাকসিন আমদানি ও ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হলেও খড়ি চধঃযড়মবহরপ ঠরৎঁং এর ভ্যাকসিন আমদানি কিংবা ব্যবহারের অনুমতি এখনও পাওয়া যায়নি। তাই কালক্ষেপন না করে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া প্রয়োজন কারণ দিন যত যাচ্ছে জীবানু আরও শক্তিশালী হচ্ছে, লোকসানের পরিমান বাড়ছে। বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে জীবনিরাপত্তা মেনে চলতে চাপ দিতে হবে এবং একাজে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদেরকে কাজে লাগাতে হবে। প্রতিটি খামারকে নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। পোল্ট্রি’র রোগ-বালাই পর্যবেক্ষণে একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠনের বিষয়েও এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। এটি সম্ভব হবে যদি আমরা একসাথে থাকি, একসাথে চলি, সামগ্রিকভাবে পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নের কথা ভাবি এবং কাজ করি। সেক্টর বড় হলে সকলেই লাভবান হবেন, দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তাই   পোল্ট্রি শিল্পের বৃহত্তর স্বার্থে ‘একসাথে চলো’ নীতিতে একতাবদ্ধ থাকা এখন খুবই জরুরী।
-অনুলিখন ঃ কামাল আহম্মদ

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


61, Joarsahara (1st floor), Dhaka-1000
Copyright © 2017 monthly Poultry Khamar Bichitra. All Right Reserved.