শনিবার || ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ || ১১:০৫:২২ সকাল

feature

ব্রয়লার মুরগী পালনে বর্ষাকালীন ব্যবস্থাপনা

প্রকাশ: বুধবার || সেপ্টেম্বর ২৬ ২০১৮ || ৫:২৩:৪৪ AM

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

বাংলাদেশ প্রধানত মৌসুমী বায়ুর দেশ। যার ফলে আবহাওয়ায় বৈচিত্রও অনেক
বেশি। শীতের পর মার্চ-এপ্রিল দিনের বেলায় প্রচন্ড গরম হয়। তারপরে বিকালে
আকাশ কালো করে আর্বিভাব ঘটে কালবৈশাখীর। শুরু হয় ঝড় বৃষ্টি। তখন তাপমাত্রা
নেমে যায় অনে নিচে। আবার দিনের বেলায় সেই গরম। তার পর জুন মাসে আমাদের দেশে
মৌসুমী বাতাসের আর্বিভাব ঘটে। তখন সরকারীভাবে বলা হয় যে বর্ষাকাল এসেছে।
আর এই বর্ষাকাল চলতে থাকে প্রায় “সেপ্টেম্বর-অক্টোবর” মাস পর্যন্ত। ফলে
দেখা যায় বর্ষা অনেক দিন ধরে বহাল থাকে। ব্রয়লার পালনে এই বর্ষাকালেই
বিভিন্ন সমস্যা এসে হাজির হয়। সেই কারনে বর্ষাকালে সঠিক খামার পরিচালনার
মাধ্যমেই খামার পরিচালককে বর্ষাকালের সমস্যার সমাধান করতে হয়।


বর্ষাকালে ধকল কেন হয়?
আমাদের দেশে সঠিক ও সুস্থভাবে ব্রয়লার পালন সমস্যাবহুল হয়ে উঠে। কারন
যতক্ষণ বৃষ্টিপাত হয় ততক্ষণ তাপমাত্রা কম থাকে কিন্তু বৃষ্টিপাত থেমে গেলে
তাপমাত্রা আবার বেরে যায় এবং এতটাই বাড়ে যে বৃষ্টিপাতের আগে তাপমাত্রা যা
ছিল তার থেকেও বেশী। আবার এর সঙ্গে রয়েছে গুমোটভাব। বৃষ্টিপাত হওয়ার জন্য
এবং মেঘলা আবহাওয়ায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান বেশী থাকে। ফলে আপেক্ষিক
আর্দ্রতার শতকরা হার বেড়ে যায়। বর্ষাকালে গুমোট গরমে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০
শতাংশে পৌছে যেতে পারে। সমস্ত খামারেই বৃষ্টিপাতের সময় ব্রয়লারদের ঘরে
পর্দা ফেলে ছাট আটকানোর চেষ্টা করা হয়, ফলে ঘরের ভেতরের পরিস্থিতি হয়
দুর্বিসহ। এরপর তাপমাত্রা যখনই বাড়ে তখনই ব্রয়লারদের ধকল হয়। বর্ষার পানিতে
লিটার ভিজে গিয়ে অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন করে, সেই গ্যাসের প্রভাবে পাখি
অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভেজা লিটারে কৃমি, ককসিডিওসিস রোগের পরজীবিরা বিশেষভাবে
সক্রিয় হয়ে উঠে। ফলে দেখা যাচ্ছে বর্ষাকালের আর্দ্রতা ও তার জন্য ধকল,
অ্যামোনিয়া গ্যাসের গন্ধের জন্য ধকল, ছত্রাক নিঃসৃত বিষক্রিয়ার জন্য ধকল,
পানিতে ই কোলাই সংক্রমনের প্রবনতা তার উপর ও ককসিডিওসিস সংক্রমনের সমস্যা
গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো বর্ষাঋতুতে ব্রয়লার পালন খামারীকে বিভিন্ন
সমস্যায় জর্জরিত করে তোলে।

বর্ষাকালীন সমস্যা ও প্রতিকার ঃ
অন্য যে কোন ঋতুর তুলনায় বর্ষাঋতুতে ব্রয়লার খামারে সবচাইতে বেশী সমস্যা
এসে হাজির হয়। বাসস্থান থেকে শুরু করে লিটার, পানির পাত্র, খাবার সংরক্ষন,
খামারে বাতাস চলাচলের বিভিন্ন সমস্যা খামার পরিচালককে বিব্রত করে। তাই
ঠান্ডা মাথায় সঠিক উপায়ে সেই সকল সমস্যা সমাধান না করলে খামারীর বিপদ
বাড়বে।

বাসস্থান ঃ বর্ষাকালে খামার ঘরের বাসস্থান অমূল
পরিবর্তন করতে হবে এমন কোন কথা নেই। তবে বর্ষা আসার আগে ঘরের ছাদ, দেওয়ালের
ভাঙ্গা, ফুটোফাটা সরিয়ে নিতে হবে। ঘরে ছাটা (ওভারহ্যাং) ছিদ্রহীন এবং সঠিক
মাপ ৩ ও ৪ আছে কিনা দেখে নিবেন,  এর ফলে বর্ষার ছাঁটে পোল্ট্রি ভিজবে না
এবং লিটারও শুকনো থাকবে। নীচের থেকে পানি উঠে ঘরের মেঝ স্যাঁতস্যাঁত না হয়
সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মেঝেতে কোন গত বা ফাটল থাকলে তা অতি সত্তর সরিয়ে
ফেলতে হবে। তা না হলে সাপ-ইঁদুরের উৎপাত হতে পারে। এক কথায় ঘরে পানি ঢোকা
বন্ধ করতে হবে, নিচের থেকে পানি উঠা বন্ধ করতে হবে এবং লিটার যেন শুকনো
থাকে তা দেখতে হবে।
বর্ষাকালে ২% কষ্টিক সোডা দিয়ে ঘর-দোর-দেওয়াল-মেঝে
খুব ভালো করে স্প্রে করুন অথবা ধুয়ে পরিস্কার করুন। ৩-৪ ঘন্টা সোডা পানিতে
ভিজে থাকার পর সব জায়গা পরিস্কার জলে ধুয়ে নিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর 
১০% লাইকর অ্যামোনিয়া ফোট ০.৮৮% অ্যামোনিয়া দিয়ে ঘর-দোর-দেওয়াল মেঝে সিলিং
ইত্যাদি ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। “ফিউমিগেশন” করতে পারলে ভালো হয়। এতে
ককসিডিওসিস এর উচ্চিষ্ট ধ্বংস হয়ে যাবার সম্ভাবনা বেশী থাকে। প্রয়োজনে
লাইকর অ্যামন ফোট লিটারে স্প্রে করা যেতে পারে। পরে চুন দিয়ে শুকিয়ে নিতে
হবে। বর্ষাঋতুতে ব্রয়লার পিছু ৪-৫ সপ্তাহ বয়সের পর গ্রীস্মকালের মতো দেড়
স্কোয়ার ফিট জায়গা দিলে ভাল হয়। বষাকালে যখন বৃষ্টি হবে তখন নেহাৎ প্রয়োজন
হলে তবেই যেন ঘরের পদা ফেলা হয়। আবার বৃষ্টি থাসলে সাথে সাথে পদা তুলে দিতে
হবে। ছাদ বা দেওয়াল দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ছে        কিনা খামার পরিচালককে
সেদিকে সতক দৃষ্টি দিতে হবে।



লিটার ব্যবস্থাপনা ঃ

বর্ষাকালে লিটার নিয়মিত পরীক্ষা করুন। কারন এই সময়ে প্রায় বেশিরভাগ খামারে
লিটার ভিজে যায়। ভিজে যাওয়া লিটার ঠিকমতো পরিচযা না করলে খামারে সমূহ বিপদ
দেখা যায়। ভিজা লিটারে ছত্রাক বংশবৃদ্ধি করে খুব দ্রুত, ফলে ছত্রাক
বিক্রিয়ার সম্ভাবনা বহুল পরিমানে থাকে। ভিজা লিটার থেকে অ্যামোনিয়ায় গ্যাস
উৎপন্ন হয় যা ব্রয়লারের ভীষন ক্ষতি করে, ব্রয়লার অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাছাড়া
ভিজা লিটার এর সবচাইতে বড় সমস্যা কৃমি ও ককডিসডিওসিস রোগের পরজীবিরা
ভীষণভাবে সংক্রমনশীল হয়ে উঠে এবং ব্রয়লার মুরগিগুলি আক্রান্ত হয়। লিটার
ভিজে যাবার আগে যখনই আদ্রতা বাড়বে তখনই অল্প দলা পাকানো লিটার বেছে ফেলে
দিতে হবে। জলের পাএের চারপাশের লিটার ভালো করে দেখতে হবে এবং নজর রাখতে হবে
যাতে জল পরে ভিজে না যায়। বর্ষাকালে লিটার শুকনো রাখার জন্য ৫০ ভাগ ধানের
তুষের সাথে প্রতি ১০০ স্কোয়ার ফিট জায়গায় ১ কেজী মায়ো এমোব্লাস্ট পাউডার
অবস্থা বঝে ব্যবহার করতে পারেন। এই সময় লিটারে ছত্রাকের বংশবিস্তার বন্ধ
করতে প্রতি ১০ স্কোয়ার ফুট জায়গায় কমপক্ষে ১ কেজি তুঁতে ভাল করে মিশিয়ে
দেবেন। তবে তুঁতে যেন খুব মিহি হয়। এতে শুধু ছত্রাকের বংশবিস্তার বন্ধ হবে
না, মোরগ-মুরগি যেটুকু লিটার স্বভাবিক ভাবে খায় তার মাধ্যমে তুঁতে খাবে এবং
মোরগ-মুরগি উপকৃত হবে।
 তুঁতের পরিবতে ‘রেজনশান ভায়োলেট’ সমপরিমানে
ব্যবহার করা যায়। যেহেতু ‘ডিপলিটার সিস্টেম’ এ আমাদের ব্রয়লার পালন হয়
সেহেতু লিটার ব্যস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়গুলিকে যথাযথ
গুরুত্ব সহকারে খামার পরিচালককে পালন করতে হবে। সবসময় লিটার ৩-৪ দিন রোদে
শুকিয়ে ব্যবহার করবেন সাধারনতঃ এক লটের ব্যবহার করা লিটার অন্য লটের
মোরগ-মুরগির জন্য ব্যবহার করবেন না। তেমনি চলতি লটের মোরগ-মুরগিকে অন্য
লিটরে পরিবতন করবেন না। মোরগ-মুরগির সংখ্যা অনুযায়ী যদি জায়গার পরিমান কম
থাকে তাহলে লিটার ভিজে যাবে। তাই মোরগ-মুরগির জন্য জায়গার মাপ অনুযায়ী
দেবেন, লিটারে খাবার পরে যেন জমে না থাকে। বর্ষাকালে লিটার রোজ ওলট-পালট
করে দেবেন, বায়ু চলচলের ব্যবস্থা অবশ্যই ভালো করে করবেন, লিটারের আদ্রতা
বাচ্ছা মুরগির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ এবং বড় মুরগির ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ থাকা
উচিৎ। লিটার উত্তম কিনা বুঝার উপায় হল এক মুঠো লিটার সংগ্রহ করুন, মুঠোয়
চাপ দিলে যদি দলা  পাকিয়ে যায় তবে সেটা খারাপ, যদি লিটার  উওম হয় তবে দলায় স
তোর মতো ফাটল থাকবে এবং হাত থেকে নিচে ফেলে দিলে লিটার ভেঙ্গে ছড়িয়ে পরবে।


পানি ও পানির পাত্র ঃ বর্ষাকালে জলধার, পানির পাত্র গুলি বিষেশ
করে মাটির পাত্রগুলি নিয়ম করে ধোঁবেন। সবার প্রথমে পাত্রগুলি ব্লীচিং
পাউডার বা ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালো করে ঘষে মেজে পরিস্কার করতে হবে পরে তুঁতের
পানি দিয়ে ধুয়ে কয়েক ঘন্টা রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করবেন।‘পাত্র’ হিসেবে
প্যাষ্টিক বা পলিথিনের পাত্রই আর্দশ। যদি ধতব পাত্র হয় তবে তাতে তুঁতে
ব্যবহার করা চলবে না। পানীয় পানি বিশেষত: টিউবয়েলের ইত্যাদির পানি প্রথমে
একটা পাত্রে নিন, তাতে ফিটকারী দিয়ে রেখে দিন। নির্দিষ্ট সময় (১০ ঘন্টার
মতো) পরে দেখবেন নীচে প্রচুর নোংরা জমে আছে। নোংরা বাদ দিয়ে পানিটা ছেকে
নিন। এইবার প্রতি ১০০ লিটার  মেশালে ভাল ফল পবেন। তবে একটা কথা মনে রাখবেন,
যে কোন পানি শোধনকারী  ঔষধ এক নাগাড়ে ব্যবহার করবেন না। দুই মাস পরপর বদল
করবেন। পানিতে ঔষধ মেশাবার পর পরই ব্যবহার করবেন না, অন্তত এক ঘন্টা পর
ব্যবহার করবেন।

খাদ্য সংরক্ষন ও পাত্রের ব্যবস্থা ঃ
ব্রয়লার
পালনে সঠিক খাদ্যই দিতে পারে ব্রয়লার পরিচলককে সঠিক লাভ। সুতরাং খাদ্য
একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই কারণে বষাকলে খাবারের সঠিক সংরক্ষন অতি
জরুরী। বর্ষাকালে একসাথে অনেক খাবার ফেলে রাখবেন না, প্রয়োজন অনুযায়ী
ব্যবস্থা করবেন। খাবার গরম হলে বুঝবেন ছত্রাক জনিত বিষক্রিয়া হতে পারে।
বস্তা এনে উঁচু টুলের উপর এমনভাবে বসাবেন যেন বাচ্চার চারদিকে ফাঁকা থাকে।
নীচে মেঝেতে বা দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে রাখবেন না। বন্ধ গুদাম ঘরে কখনো
নয়। অন্য ধাতব বা মাটির পত্রে কখনো রাখবেন না। বষাকলে প্রতি টন খাবারে
৫০০-১০০ গ্রাম মিহি তুঁতের গুড়ো বা “জেনশানভায়োলেট” ৫০০ গ্রাম মিশাতে
পারেন। ১-২ কেজি প্রতি টন খাবারে মিশাতে পারেন। আবার প্যাষ্টিক বা পলিথিনের
পাত্র সবচাইতে ভাল। এই সব পাত্র ১০ লিটার জলে ৫ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার দিয়ে
ধুয়ে নেওয়া যায়। ডিসকল দিয়ে ১ ঘন্টার উপর খাবার পাত্রগুলি ভলো করে ভিজিয়ে
রোদে শুকিয়ে নিতে পারেন। বর্ষাকালে অনেক সময় সূর্যের আলো থাকে না। তখন
শুকনো কাপর দিয়ে মুছে নেবেন।

বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা ঃ
বর্ষাকালে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে ঘরে যেন ঠিকমত বাতাস চলাচল করতে পারে।
মুরগী শোষণ রক্তের প্রাণী, সে জন্য বেশী গরম সহ্য করতে পরে না। ৭০০-৭৫০
ফা. তাপ মুরগীর জন্য আদশ। ঘরে যদি ঠিকমত বাতাস চলাচল করতে পারে তবেই ঘরের
তাপমাত্রা ঠিক থাকে। তাছারা ঘরে অতিরিক্ত আদ্রতা, অ্যামোনিয়া, গ্যাস বের
করার জন্য বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন। আর্দ্র বাতাস
মোরগ-মুরগির লিটারের ক্ষতি করে।বর্ষাকালিন ব্রয়লারের রোগ ঃ বর্ষাকলে
ব্রয়লারের বিভিন্ন প্রকার রোগের প্রাদুর্ভাব খুব বেশি হয়। যে কোন ধকলে যা
হয় পাখীর খাওয়া কমে যাবে তার ফলে দৈহিক বৃদ্ধির হার কম হবে। অ্যামোনিয়া
গন্ধ তাপ এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতার ফলে পাখীর শ্বাসকষ্ট হবে। শ্বাসতন্ত্রে
ধকল পড়ার ফলে শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণশীল ভাইরাস মাইকোপ্যাজমা জনিত রোগ বেশি
হবে। মনে রাখবেন, ভিজা লিটার থেকে ছত্রাক নিঃসৃত বিষ খাওয়ার ফলে শরীরের রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে সংক্রমন প্রবনতা বেড়ে যায়। ভিজা লিটার থেকে কৃমি ও
ককসিডিওসিস রোগের সংক্রমন হতে পারে। উপরন্ত ডাইরিয়া সয়ক্রান্ত রোগের
প্রবনতা বেড়ে যায়। শব ব্যবচ্ছেদ করে এক বা একাধিক রোগের ক্ষতি খালি চোখে
দেখতে পাওয়া বিচিত্র কিছু নয়। এক তরফা মোরগ-মুরগি পরীক্ষা করে রোগ নির্নয়
করলে যে সুরাহা হবে তার ভাল হবে মোরগ-মুরগির ঘর, লিটার,জল ও জলের পাত্র,
খাদ্য ও খাদ্যের পাত্রের সঠিক পর্যবেক্ষন ও সঠিক ব্যবস্থা গ্রহন এবং সব
ব্যবচ্ছেদ। সেই সাথে উন্নত পরিচালনা ব্যবস্থা ও প্রতিষেধক প্রতিরোধক
চিকিৎসার মাধ্যমে সমূল্যে উৎপাটিত করা। নইলে বিভিন্ন সমস্যা, বিভিন্ন রোগ
ঘুরে ঘুরে বারবার আসবে।

প্রতিকার ঃ যেহেতু বর্ষাকলে ব্রয়লার
পালনে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে সেহেতু সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে
অত্যবশ্যকীয় কিছু ঔষুধ হাতের কাছে রাখা দরকার। তুঁতের জল ও ভিনিগার দিয়ে
কাঁচের পাত্রে ‘স্টকসলুউশন’ তৈরি রাখতে হবে। স্টকসুলশন কিভাবে বানাবেন-

ষ্টকসুলশন
(১লিটার)এই স্টক সলিউশন সরাসরি মোরগ-মুরগিকে দেবেন না। ১০ এম.এল.
প্রতি লিটার পনীয় জলে মিশিয়ে ১ দিন অন্তর ৫-৭ দিন সর্বক্ষন বর্ষাকালে
দেবেন।
এই “সলুশন” ধাতব পাত্র দেবেন না, পলিথিন জাতীয় পাত্রে দেবেন। যদি
এই সলুশন ব্যবহার করার কোন অসুবিধা থাকে তবে আগের নিদেশ মতো খবারের সাথে
তুঁতে দেবেন।
অনে তুঁতের পানি ৩-৪ ঘন্টার মত প্রতিদিন ব্যবহার করে থাকেন।
দিনের জন্য সমস্যা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। পানি ব্রয়লারের ৪ সপ্তাহ সময় এবং এ.ডি.ই.সি. একটু বেশী মাত্রায় দেবেন।
এরোস্ট্রেস
১৫ লি. লি. প্রতি ১০০টি পাখীর জন্য ব্যবহার করতে পারেন ৫/৭ দিনের জন্য।
লেমাজল-পি পাউডার পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়ার জন্য ব্যবহার করুন। মাত্র
১ গ্রাম প্রতি ১০০টি মোরগ-মুরগি পানিতে ৭ দিনের জন্য। ককসিডিওসিস এর
প্রতিষেধক ঔষধ খাবার মেশানো থাকে। তবু খুব খারাপ লিটারে পাখী থাকলে লিটার
পরিচর্যার সাথে সাথে এমিক্স এ্যাম্প্রোলিয়াম ২০% ১ গ্রাম প্রতি লিটার
পানিতে তৎসহ দিতে পারেন। প্রয়োজনে ঔষুধ প্রয়োগের বয়ঃক্রম হেরফের করা যায়।
এছাড়া বর্ষা ঋতুতে লিভারটনিক, লিভ-১০০ দিনে ১ বার প্রতি ১০০টি পাখির জন্য ২০ এম এল. পর্যন্ত ব্যবহার করা যায় ৭/১০ দিনের জন্য।

-সংগৃহীত প্রতিবেদন

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


61, Joarsahara (1st floor), Dhaka-1000
Copyright © 2017 monthly Poultry Khamar Bichitra. All Right Reserved.