শুক্রবার || ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ || ১০:২০:১৭ অপরাহ্ন

readers

পোল্ট্রি শিল্পে ব্যয় কমুক আয় বাড়ুক

প্রকাশ: বুধবার || সেপ্টেম্বর ২৬ ২০১৮ || ৫:৩০:০৮ AM

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

ভেটেরিনারী ঔষুধ কোম্পানীর প্রোডাক্টে প্রায়শই প্রয়োজনীয় উপাদান যথাযথভাবে মেশানো হয় না, যার ফলে এসব ঔষুধ হাঁস-মুরগির রোগে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে না। সাধারণ খামারিরা ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সরল বিশ্বাসে এসব ঔষুধ খামারে প্রয়োগ করে আশাহত হন। পোল্ট্রি খামারে যখন রোগাক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ২০/৩০ টি বা আরো বেশি মুরগি মারা যেতে থাকে তখন খামারিরা দিশেহারা হয়ে ভেটেনারি ডাক্তারের শরণাপন্ন হলে তাঁরা তাঁদের পছন্দনীয় কোম্পানির ঔষুধ প্রেসক্রিপশন করে থাকেন। খামারিরা আতœবিশ্বাস নিয়ে ঔষুধ প্রয়োগও করেন, কিন্তু ফলাফল শূন্য। মাঝখান থেকে মুরগি ধ্বংসের পাশাপাশি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হন খামারিরা। বিএসটিআই-এর কর্মকর্তাগণ যখন ঔষুধের মান যাচাইয়ের জন্য উৎপাদন স্থলে যান তখন তাদেরকে যে স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয় তার গুণগত মান যথাযথ থাকে, কারণ ঐ ঔষুধ তৈরি করা হয় বিশেষভাবে। ফলে অন্তরালের বিষয়টি থেকে যায় ধরাÑছোঁয়ার বাইরে। আবার বিভিন্ন ভ্যাকসিন যথাযথ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করায় ভ্যাকসিনের কার্যকরিতাও হ্রাস পায়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে খামারে ব্যবহার হওয়া ঔষুধগুলো বিএসটিআই-এর কর্মকর্তাগণ পরীক্ষা করলে গুণগত মানের আসল রুপটি ধরা পড়ত। এই শিল্পখাতটি শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য আয়ের একটি বিরাট উৎস এবং অনেক লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপশি জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভুমিকা রাখতে পারে, পূরন করতে পারে খাদ্য-পুষ্টির চাহিদা। অথচ খামারিরা উৎপাদিত ডিমের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় খামার সম্প্রসারণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। মাঝখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চুষে নিচ্ছে ব্যাপক লভ্যাংশ। একজন খামারি একটি ডিমের মূল্য পাচ্ছেন মাত্র ৪ থেকে ৫ টাকা। একজন খাদক একটি ডিম খাচ্ছেন ৮/১০ টাকায় অর্থাৎ মাঝখানে প্রতি ডিমে ৪/৫ টাকা সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতি ডিমে খরচ বাদে ৫০ পয়সার বেশি মুনাফা হয় না বলে দাবি করেন ডিম ব্যবসায়ীরা। সবাই যদি নিজ অবস্থানে ঠিক থাকার কথা জানান, ঔষুধ যদি গুণগত মান সম্পন্ন হয়, তাহলে ঔষুধ প্রয়েগে মুরগি সুস্থ হয় না কেন ? খাবার যদি ভালোই হবে তাহলে পরিমাণ মতো খাবার খাওয়ানোর পরও ডিম উৎপাদন ওঠা-নামা করে কেন? ডিম ব্যবসায়ীরা যদি প্রতি ডিমে ৫০ পয়সা লাভ করে থাকেন তাহলে প্রতি ডিমের খুচরা মূল্য ৮/১০ টাকা এবং পাইকারী মূল্য ৪/৫ টাকা কেন? এর সঠিক জবাব কি পাওয়া যাবে? নি¤œ মানের ঔষুধ, মুরগির খাবারে ভেজাল, কিছু ডাক্তারদের অনৈতিকতা এবং ডিম সিন্ডিকেটের কারণে এই শিল্পটি মুখ তুলতে পারছে না। তার পরেও সাধারণ খামারিরা নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে খামার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। ঔষুধ কোম্পানি, ফিডমিল মালিক, সংশ্লিষ্ট ঔষুধ ব্যবসায়ী এবং ডিম ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ওপর সরকারি নজরদারি জোরদার করা গেলে বাস্তবায়িত হতে পারে বতমান সরকারের ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প’। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে প্রত্যেক ঘরে ঘরে। সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, রোগ নিরাময়ে উন্নত মানের ভ্যাকসিন সহায়তাসহ সুষ্ঠু খামার ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হতে হবে। পোল্ট্রিশিল্পে ব্যয় কমিয়ে বাড়াতে হবে আয়। যেহেতু দেশের বেকার যুব সমাজের একটি বিরাট অংশ এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত, তাই দারিদ্র্য বিমোচনসহ জাতীয় উন্নয়নের জন্য পোল্ট্রি শিল্পের দিকে এখনি সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। সুষ্ঠু ব্যবসানীতি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয় সাধন করা গেলে পোল্ট্রি শিল্পে আয় বৃদ্ধি পাবে এবং বাস্তবায়িত হবে টেকসই অর্থনীতি।
-আবুল কালাম আজাদ, শ্রীপুর, গাজীপুর

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


61, Joarsahara (1st floor), Dhaka-1000
Copyright © 2017 monthly Poultry Khamar Bichitra. All Right Reserved.