শনিবার || ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ || ১২:০০:০০ অপরাহ্ন

feature

ডিমের খোসা গঠনে ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা

প্রকাশ: বুধবার || সেপ্টেম্বর ২৬ ২০১৮ || ৫:৩১:৪৯ AM

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

ডিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে ডিমের গুণগত মান, আকার এবং কোসার গঠন স্বভাবিক ভাবেই উন্নত হউক এটি সবাই আশা করেন। তাছাড়া এসকল দিকগুলি ডিমের বাজারজাতকরণেও যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। আমাদের দেশে পোল্ট্রি খামারগুলোতে ডিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে এ বিশেষ দিকগুলো বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিত। ক্রেতাগোষ্ঠীর সন্তুষ্টি এবং উৎপাদিত পন্য সঠিকভাবে বাজারজাত করা এবং তা থেকে কাঙ্খিত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পোল্ট্রি ব্যবস্থাপনায় ক্ষাণিকটা সুদৃষ্টি উল্লেখিত দিকগুলির সহজ সমাধান বয়ে আনতে পারে। উল্লেখ্য, ডিমের খোসার গঠন উন্নত হলে তা যেমন পরিবহনে সুবিধাজনক তেমনি বাজারজাত করণেও ভার হয়। তাই আলোচ্য বিষয়ে খামারিদের খামারে খাবার সরবরাহের এবং ফিড ফর্মূলেশনে একটু ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করার পরামর্শ দেয়া গেল। প্রায় ২০ বৎসর যাবৎ খাদ্যে ক্যালশিয়ামের কার্যকারিতা এবং খাদ্যে-এর ব্যবহার বিধিও পোল্ট্রির জৈবিক প্রক্রিয়ায় এর উপযোগিতা কি প্রকৃতির তা নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চলে আসছে। গড়হমরহ এবং ঝধাঁবৎ প্রমূখ বিশেষজ্ঞগণ তাদের গবেষণায় তথ্যের উপর ভিত্তি করে যে সিদ্ধান্তে উপণীত হয়েছেন, তা হলো কেবলমাত্র বিকেল বেলাতেই মুরগি সরবরাহকৃত খাবারের অধিক পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকে। ফলতঃ খাবারে বরাদ্ধকৃত ক্যালসিয়াম মুরগি দিনের এই ভাগটিতেই বেশি পেয়ে থাকে যা ডিমের উন্নত খোসা গঠনের ব্যাপকভাবে সাহায্য করে। দিনের শেষ ভাগে এবং রাতে খাবার খাওয়ার কারণে ক্যালসিয়াম গ্রহণের মাত্রা কাঙ্খিত হয় এবং গুণগত খোসা গঠনকেও ত্বরান্বিত করে।
নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ক্যালসিয়াম বরাদ্দ ঃ খাবারে যখন ক্যালসিযামের পরিমাণ কম থাকে তখন খাবারে আলাদাভাবে ক্যালসিয়াম উৎস ব্যবহার করা উত্তম। যেহেতু মুরগি দিনের শেষভাগটিতে অর্থাৎ আলো চলে যাবার ক্ষণিকক্ষণ আগে অধিক পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকে সেহেতু এক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম অতিরিক্ত হারে যোগ করা হলে প্রায় ৭০-৭৫% ক্যালসিয়াম মুরগি খাবারের সঙ্গে পেয়ে থাকে। মুরগিকে যখন পূর্ণমাত্রায় সুষম খাবার সরবরাহ করা হয়, তখন দেখা গেছে দিবাভাগের শেষ ৬ ঘন্টা তারা অধিক পরিমাণ খাবার খাচ্ছে। যেহেতু ডিমের খোসা গঠন কর্যক্রম আলো শেষ হওয়ার ঘন্টা দু’তিনেক পরে আরম্ভ^ হয়, সুতরাং রাতের যে সময় শুরু হউক না কেন, মুরগিতে প্রায় ১২-১৪ ঘন্টা যাবৎ পর্যাপ্ত হারে জমাকৃত এই ক্যালসিয়াম খোসা গঠন কাজে ব্যবহৃত হয়।
উপরে ক্যালসিয়াম এবং খাদ্য গ্রহনের মাত্রা লেখাচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো ঃ
ক্যালসিয়াম বিশ্লেষণ ঃ মুরগির খাদ্যথলি হলো একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এবং অঙ্গটিতে খাবার অনেক সময় ধরে জমা থাকে। তাই মুরগি যখন খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকে (অধিকাংশ ক্ষেত্রে রাত্রিবেলা) যখন এই খাদ্যথলি থেকে খাদ্যের পুষ্টি উৎপাদনগুলো গিজার্ডে (গিলা) পরিবাহিত হয়। সুতরাং খাদ্যথলি কোন প্রকার ক্ষত কিংবা কোন প্রকার ত্রুটি অথবা অপুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার এতে মজুদ থাকলে স্বভাবিকভাবেই জৈবিক প্রক্রিয়া সামান্য হলেও ত্রুটি দেখা দেবে। এক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে ডিমের খোসা গঠনে মারাত্মক বিরুপ প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। অর্থাৎ স¦াভাবিক বা উন্নত খোসা গঠন প্রক্রিয়া ব্যহত হবে। তাই দিনের শেষভাগে মুরগি যখন তুলনামূলক বেশি খাবার খায় তখন খাবারে উন্নত খোসা গঠনকল্পে ক্যালসিয়ামের পরিমান যাতে সঠিক থাকে সেদিকটায় বিশেষ নজর দিতে হবে। যখন ডিমের খোসা গঠন প্রক্রিয়া চলতে থাকে তখন খাদ্যথলি থেকে এক ধরনের তরল পদার্থ নিঃসৃত হতে থাকে এবং তা  গিজার্ডে স্থানান্তরিত হয়। এই নিঃসৃত তরলে হাইড্রোক্লোরিক এসিড থাকে যা খাবারের ক্যালসিয়ামকে দ্রবীভূত করে এবং খাদ্যথলির সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে এই দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম অন্ত্রনালীতে পৌঁছায়।
ক্যালসিয়ামের আকার এবং বিতরণকাল ঃ
১৯৮৬ সালে ঠধহ ডধহনবপশব এবং উব এৎড়ড়ঃব  ক্যালসিয়ামশূন্য এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার দিনের বিশেষভাগে সরবরাহ করে একটি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি দেখেন যখন মুরগির খাবারে মিহিপ্রকৃতির ক্যালসিয়াম উৎস ব্যবহার করা হয়েছে সেক্ষেত্রেই ডিমের খোসা গঠন একেবারে নি¤œমানের হয়েছে। আবার যখন সকাল বিকাল উভয় সময়ই দানাদার ক্যালসিয়াম ব্যবহার করা হয়েছে সেক্ষেত্রে বেশ ভালমানের ডিমের খোসা গঠিত হয়েছে। উপরে গ্রাফের মাধ্যমে বিঘিœত খোসা গঠন প্রক্রিয়া দেখানো হলো। তাই বিকেল বেলা যদি দানাদার ঝিনুকচূর্ণ সমৃদ্ধ খাবার সরবরাহ করা হয় তবেই উন্নত খোসাগঠন নিশ্চিত করা যায়।
রাতের যেকোনো সময় ২ ঘন্টা আলো প্রদানে খোসা গঠনে কী প্রভাব ফেলে ঃ 
রাতের যে কোন সময় যদি মুরগি খাবার খাওয়ার সুযোগ পায় তবে তা ডিমের উন্নত খোসা গঠন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। সম্প্রতি দুটি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে এৎরুুষব,১৯৯২ পোল্ট্রি শেডে রাতে দুই ঘন্টা আলো প্রদান ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, এই পর্যবেক্ষণকালে আলো প্রদান কর্মসূচী নেয়া হয় আলো প্রদান শেষ হওয়ার দুই থেকে আরাই ঘন্ট পরে। দেখা গেছে রাতের মধ্যভাগে আলোর এই তাৎপর্যপূর্ণ ব্যবহার যেমন খাবার গ্রহণের হারকে বৃদ্ধি করে তেমনি ডিমের খোসা গঠনও উন্নত হয়। তাছাড়া রাতে এই খাবার অভ্যাস, গরমের ধকলের কারণে দিনে যে কম খাদ্য গ্রহণের ঘাটতি থাকে তাও পূরণ হয়। এবং ক্যালসিয়াম গ্রহণের মাত্রাটাও সাম্যাবস্থায় আসে।
ব্যবহারিক প্রয়োগঃ দিনের শেষভাগে ক্যালসিয়াম প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে যা করণীয় ঃ
ষ  খাদ্য দানাদার (২.৪ মি.মি.) ক্যালসিয়াম কার্বনেট যোগ করে মুরগিকে দিনের শেষভাগে খেতে উৎসাহিত করতে হবে।
ষ  দিনের মধ্যভাগে কমপক্ষে ২-৩ ঘন্টা খাবার পাত্রগুলি খালি রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। এই পদ্ধতি অবলম্বনে মুরগির ক্ষুধার ইদ্রেক হবে এবং দিনের শেষ ভাগে যথেষ্ট পরিমাণ খাবার খাবে। তাই দিনের আলো এবং কৃত্রিম আলো প্রদানের সময় শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৬ ঘন্টা পূর্বেই খাবার বরাদ্দ করতে হবে।  ষ  খাদ্যথলির উন্নত গটন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে।  ষ  খাবার পাত্রে দানাদার ক্যালসিয়াম (২-৪ মি.মি.) সরবরাহের মাধ্যমে।  ষ  ডিম পাড়ার আগে মুরগিকে রাতে কমপক্ষে দুই ঘন্টা আলো প্রদান করে মুরগিকে খাবার খেতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে। 

Share on Facebook   Share on Twitter   Leave Your Comment  Share via Email  Google Plus 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


61, Joarsahara (1st floor), Dhaka-1000
Copyright © 2017 monthly Poultry Khamar Bichitra. All Right Reserved.